সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

টানাপড়েন ছাড়া কি জীবন হয়

 শতভাগ সমস্যাসঙ্কূলতা চারদিক থেকে কি জীবনকে ঘিরে ধরে কখনও। শহুরে সভ্যতায় এটা কি সম্ভব। কারন দূর্বল মানুষের পক্ষে সুযোগের সদ্ব্যাবহার করে চলার যথেস্ট সুযোগ আমাদের সভ্যতায় কয়েকটি শতাব্দী অতিক্রান্ত হলেও আছে। পুরাতন এই সভ্যতায় টিকে থাকার নানান উপাদান এখনও যথেস্ট পরিমানে হয়েছে। পাশবিকতার পাশাপাশি মনুস্বত্ব চর্চাও সমান তালে চলছে। এখন মানুষ শতভাগ দুঃশ্চিন্তার কথা না বলে শতাংশের হিসাবে সমস্যাগুলি চিহ্নিত করতে জানে। টিকে থাকার প্রসঙ্গে সিরিয়াসনেসের কথা আলোচনায় না জড়িয়ে এর চেয়েও বেশি করে সামাজিক বিপ্লবকে প্রাধান্য দিয়ে চলতেও শিখেছে।

কিন্তু আমাদের মাতৃভূমি এই দেশ এখন যেমন আছে চিরকালই এমন ছিলো না। কোন একসময় ধানমন্ডি গুলশানের মত এলাকাতেও সন্ধ্যা নামতেই মানুষ তাড়াহুড়ো করে ঘরে ঢুকে ভাল করে খিল লাগিয়ে তবে শু'তো। সেটা ভূতের ভয়ে নাকি অন্য কোন কারনে তা জানিনা। তবে এখনকার উন্নত এসব এলাকার অনেকটাই জঙ্গলময় ছিলো তখন। বাগডাঁশ বনবিড়াল শেয়াল এসবের বিচরন ক্ষেত্র ছিলো। এখন পুরা পৃথিবীতেই জনসংখ্যা ব্যাপক ভাবে বেড়েছে উন্নয়নের তাড়নায়। পৃথিবীতে সাতশত কোটি মানুষ এখন। তারা সবাই যদি একযোগে হুঙ্কার দেয় তখন বাগডাঁশ হোক বা সেটা কোন বনবিড়াল, কিংবা ছাগশিশু বা শেয়াল  পলাবার পথ পাবেনা। তাদের পেটেও ভূটভাট করবে, কষা পায়খানাও পাতলা হয়ে যাবে।আমার মনে পড়ে আমি নিজেই তো ছেলেবেলা কত খেঁকশিয়াল তাড়া করেছি।

সমস্যার বিচারে প্রথমেই যে বিষয়টি আলোচনায় আসে সেটা হচ্ছে সমস্যাটির প্রকৃতি। মানুষ সামাজিক ভাবে বেঁচে থাকে। গোষ্টিবদ্ধতা এজন্যই প্রত্যেক সমাজের গঠনমূলক অংশকে নির্দেশ করে থাকে। তা সেটা হোক কোন জেলে সমাজ কিংবা কৃষকদের সমাজ বা ডাকাত সমাজ। টিকে থাকার বিষয়টি যে মূখ্য আলোচনার বিষয় তা কিন্তু এখানে মোটেই নয়। গঠনমূলক দিকগুলি নিয়েই সমাজের আলোচনা বহাল থাকবে। এর প্রধান কারন হল নেতৃত্ব সম্বন্ধে একটি সমাজের সাধারন বোধ বা ধারনা।

সফলভাবে নেতৃত্ব দিতে গোত্র বা সমাজে নেতার প্রয়োজনীয়তা আছে তা বোধগম্যতা হয় এটা হচ্ছে একটি শ্রেনীর সমাজ ধারনার প্রাথমিক পরিচয়।যদিও প্রধানতম সাংগঠনিক দক্ষতা এটি না। কিন্তু নেতৃত্বের জন্য যেসব মানুষ একটি বিশেষ গুনাবলীর প্রয়োজনীয়তা হয় এই বিষয়টি জানে এবং তারা এ কথা পূর্বাহ্নেই স্বীকার করে নেয় সে সমাজ কিছুটা ভিন্ন প্রকৃতির মানব গোস্টি। এরা সর্বদা কিছু উদ্যেশ্যকে সামনে নিয়ে এগিয়ে চলে এমন দলপতির প্রায়োরিটাইজড সমাজ। সেখানে কিছু একটা দ্বন্দ থাকতেও পারে এবং যার পরিস্কার প্রতিচ্ছবি মানুষের মধ্যে না তৈরী হলেও অস্পস্ট একটি মীথ তাদের সামনে বিদ্যমান থাকবেই ও হয়তো সমাজের রীতি নীতিতেও মীথ বর্তমান আছে কিংবা উভয়টিও হতে পারে।

অভ্যন্তরীন বা বহিস্থঃ উভয় অবস্থানেই দ্বন্দের প্রকৃতিটি সম্বন্ধে সচেতনতা থাকা, conscious এটা একটি প্রিমিটিভ সমাজ জীবনের বাস্তবতা হলেও আধুনিক যুগে এসব মিথস্ক্রীয়া নুতন করে বিভিন্ন সমাজে নানাভাবে দৃশ্যমান হয়েছে। এর কারন কি শুধুই দ্বন্দসংঘাতে টিকে থাকা নাকি তাদের নিজস্ব অব্যাহত উন্নয়ন ধারনায় কোন বিচ্ছেদ বা এ সম্বন্ধে আলোচনায় নতুন কোন অদৃশ্য প্রতিবন্ধকতা তৈরী হল, সেটা আসলেই যে কি তা বুঝতে এবং এর প্রকৃত কারন নির্নয়কল্পে দার্শনীক বিশ্লষন সহকারে সকল ক্ষেত্রগুলিরও বিশেষ পর্যবেক্ষন সাপেক্ষ। তার হদিস পাওয়া যাবে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

একটি সৌভাগ্য আনতে সামাজিকতা দরকার কিন্তু অন্যদিকের সত্য হচ্ছে এই যে সৌভাগ্য এটা বয়ে বেড়ানোটা হচ্ছে আসলে দূর্ভাগ্যের প্রতীক

 বর্ননার অতীত অনুভূতিগুলি কাউকে বলে ফেলতে চায় এটা অনেক মানুষেরই আন্তরিক কামনা থাকে হয়তো। কিন্তু বলতে চাইলেই কি বলার মত মানুষ পাবে কিংবা অন্ততঃ শোনার মত কান তো থাকতেই হবে। তাহলে শ্রোতা এবং বক্তার মধ্যে সমন্বয় সাধন হয় কি করে। বিনা পয়সায় অন্যের ''খাবি খাওয়ার'' জীবন কাহিনী কে ই বা শুনতে যাবে, তা ও অনেকটা গায়ে পড়ে। সবাইতো আর একজীবনে একসাথে অর্থনৈতীক দূর্ভাগ্যের পাল্লায় পড়ে না। যে বৃদ্ধ এখন সীমাহীন দূর্দশাগ্রস্ত তারও তো জওয়ানি একটি সময় ছিলো যে সময়টা সে উপভোগে না হলেও নিদারূন দূর্দশা ছাড়াই পেরিয়ে এসেছে। এবং তাকে এর জন্য কোন যুদ্ধও করতে হয় নাই। শুধুমাত্র সচেতন মন ও কর্মপ্রবন মানযিকতা এখন বয়ঃবৃদ্ধ ঐ যুবককে তার সময়কে উপভোগ্য করতে প্রভাবিত করতো। এটাই হচ্ছে টানাপড়েনের মধ্য হয়ে বেরিয়ে আসা যৌবনকালের সর্বোত্তম সময় প্রত্যেক মুগ্ধ প্রজন্মের কাছে আরাধ্য। তারপর এই মুগ্ধতা আমরা নিজেরাই আরামসে ব্যাবহার করতে পারি সৌভাগ্যকে স্পর্শ করতেও আশা রাখি। বয়সটি পার হলেও  পুরাতনকে হতাশায় ফিরে তাকাই না। শুধু বলার মত কিছু মানুষের দরকার হয় জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে। যদি এমন কেউ থাকে যিনি কিনা পৃথিবীর সবচাইতে...

কথা হল শুরু চিরির বন্দর বুড়িমারি উপজেলা।

 কোন বন্ধু নাই। কথা বলতে হলে যোগ দিতে হবে আড্ডায়।নাহ্ কয়জনার সামর্থ আছে ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর। ড্রেনের পোকা কিঁড়াগুলি কিলবিল করে এই প্রলিফিক আবহাওয়াতে। রাস্তার দিকে নজর যায় না। কিন্তু তবুও শোরগোল কিছুটা কানে আসলে তখন তাকাতেই হয়। হ্যাবলা চোখে কেবল না পারে কিছু দেখতে আর না পারে মানুষেরও নজর এড়াতে এমন ক্যাবলাকান্ত (Cable)দের প্রাধান্য চোখে পড়ার মত এখানে। আড্ডাখানা জমজমাট থাকে। হামেশাই গোলমালে উচ্চকিত হতেও বাধা নাই কোথাও।  বুড়িমারিতে বন্ধুবান্ধবের বড়ই অভাব। কথা হল শুরু এভাবেই। ছোট ভাই কাছেই আছে। মারুফা ছাদে বসে রোদ পোহাচ্ছে। সাত সকালের শীতের তীব্রতা কমা তো দূরেই থাক এখন সকাল দশটাতেও আরো বলে বেড়েছে মনে হয়। কুয়াশার চাদর থেকে সূর্য উঁকি দিয়েছে সবে।তাই হবে হয়ত এইজন্য। এই ছোট শহরের কারোরই যেন চাওয়া পাওয়া নাই।পৃথিবীটা অনেক বড় হলেও এদের সেই ধারনাটা কেবল দূরবীন দিয়ে দেখার মত।বেশিরভাগ মানুষই এখানে কি রকম নিস্পূহ থাকে।তবুও কাহিনী আছে। যার অধিকাংশই আড্ডাখানার অবাস্তব সব কাহিনী। বাংলা কবিতায় যেমনটা এসেছে,  ''থাকবোনা আর বদ্ধ ঘরে দেখবো এবার জগৎটাকে..'' বন্ধু পাওয়া না পাওয়ার কথা নয়। ...