সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

একটি সৌভাগ্য আনতে সামাজিকতা দরকার কিন্তু অন্যদিকের সত্য হচ্ছে এই যে সৌভাগ্য এটা বয়ে বেড়ানোটা হচ্ছে আসলে দূর্ভাগ্যের প্রতীক

 বর্ননার অতীত অনুভূতিগুলি কাউকে বলে ফেলতে চায় এটা অনেক মানুষেরই আন্তরিক কামনা থাকে হয়তো। কিন্তু বলতে চাইলেই কি বলার মত মানুষ পাবে কিংবা অন্ততঃ শোনার মত কান তো থাকতেই হবে। তাহলে শ্রোতা এবং বক্তার মধ্যে সমন্বয় সাধন হয় কি করে। বিনা পয়সায় অন্যের ''খাবি খাওয়ার'' জীবন কাহিনী কে ই বা শুনতে যাবে, তা ও অনেকটা গায়ে পড়ে। সবাইতো আর একজীবনে একসাথে অর্থনৈতীক দূর্ভাগ্যের পাল্লায় পড়ে না। যে বৃদ্ধ এখন সীমাহীন দূর্দশাগ্রস্ত তারও তো জওয়ানি একটি সময় ছিলো যে সময়টা সে উপভোগে না হলেও নিদারূন দূর্দশা ছাড়াই পেরিয়ে এসেছে। এবং তাকে এর জন্য কোন যুদ্ধও করতে হয় নাই। শুধুমাত্র সচেতন মন ও কর্মপ্রবন মানযিকতা এখন বয়ঃবৃদ্ধ ঐ যুবককে তার সময়কে উপভোগ্য করতে প্রভাবিত করতো। এটাই হচ্ছে টানাপড়েনের মধ্য হয়ে বেরিয়ে আসা যৌবনকালের সর্বোত্তম সময় প্রত্যেক মুগ্ধ প্রজন্মের কাছে আরাধ্য। তারপর এই মুগ্ধতা আমরা নিজেরাই আরামসে ব্যাবহার করতে পারি সৌভাগ্যকে স্পর্শ করতেও আশা রাখি। বয়সটি পার হলেও  পুরাতনকে হতাশায় ফিরে তাকাই না। শুধু বলার মত কিছু মানুষের দরকার হয় জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে।

যদি এমন কেউ থাকে যিনি কিনা পৃথিবীর সবচাইতে ধীর প্রাণী স্লথকে অনুসরন করেও মনে মনে সৌভাগ্যকে প্রকৃতিক নিয়মে অনুভব করতে চান তাহলে তিনিই হয়তো একমাত্র জীবিত পৃথিবীর প্রাচীনতম মানুষ হওয়ার তকমা নিজের নামের উপর চাপাবেন। আর ইনিই সেইজন যিনি স্বেচ্ছায় চারপাশ থেকে নিজের জন্য দূর্ভাগ্যের প্রতীক বহন করছেন। নিজেরই অজান্তে।কিন্তু সমাজে থেকেও এটা তো তাঁর অজানা থাকার কথা ছিলো না। তবে এই বাকরুদ্ধ পরিস্থিতি সৃস্টি হবার কারন কি ছিল। কিংবা কি প্রয়োজন ছিলো নির্বাক অতীতের ব্যার্থতার দিকে ফিরে ফিরে তাকানো।

ইগো থাকলে মানুষ হটকারী গেমের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়, হয়তোবা নিজেরই অজান্তে। তাহলেও চারিদিকে একবার তাকিয়ে সৌভাগ্যের পরশমনীর হাতছানি তিনি একেবারেই কি অনুমান করতে পারবেন না। এটা কেমনে সম্ভব। ভেবে চিন্তে দেখলেও এটাকে একটা রহস্যই মনে হবে যে কারো কাছেই। সবাই শুধুমাত্র নিজের ভবিষৎকে ভেবে চিন্তেই পথ চলেন। 

মানুষ প্রতিনিয়ত নানান বিষয় নিয়ে কথা বলে থাকে। কথা না থাকলেও শ্রোতা হয়ে মত প্রকাশ করতে অন্তত দ্বিধা করবে না অধিকাংশ মানুষ।এটা অংশগ্রহন একটু অদ্ভুত মনে হলেও সমাজ সংসার এবং রাজনীতিতেও ইহা খুবই বাস্তব। কারন ক্রিকেট খেলায় বিশাল সময় নিয়ে ঝুলে থাকা এই মাংসল সমাজের অন্তর্ভুক্ত না থাকলেই বরং বেশী ভয়। কারন এই যে ইনটুইশান এটাই অনেক মানুষের মধ্যে থাকছে না বা মাথায় কাজ করছে না। কিছু পরিশিলীত রূপকারদের বিচিত্র আচরন এখানে মূখ্য ভূমিকা রাখে বলে প্রমানও আছে। সাজানো পরিস্থিতিতে আমি আপনি সবাই ক্রিয়নকের ভূমিকায় রয়েছি। যাদের মস্তিস্ক মানিয়ে গেছে তারাই বেঁচে গেছে। পিছন থেকে কলকাঠি নাড়লেও এই শ্রেনী সাজুস্য খুঁজে নিতে পেরেছে।

বস্তুত একটি জনবহুল সমাজের গতিবিধী বুঝতে হলে পরে কিছুটা অন্যরকম জ্ঞান অথবা প্রজ্ঞা বা দুটোই থাকা খুবই দরকার। আড়ালে অবডালে বসে বিধাতা সবকিছু দেখলেও আখেরে কিন্তু প্রতিটি মানুষকে নিজেকেই নিজের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ন সিদ্ধান্তগুলি নিতে হচ্ছে প্রতিদিনই।এভাবেই কেটে যাওয়া সময়র জন্য একমাত্র মৃত্যু ছাড়া আর কাউকেই জবাবদিহি করতে হবে না তারা এটাও নিশ্চিত জেনেছে। এসব নিয়ে আজও মানুষ তাদের মনগড়া একটি ইগো সহকারে চলছে জীবনের পথটা অবলীলায়। কিভাবে? কারন জবাবদিহী করতে হবে না কাউকেই। ইতমধ্যেই এটা তাদের বোধগম্য হয়েছে যখন থেকে এসব সত্যমিথ্যার দ্বন্দগুলি সুস্পস্ট হতে শুরু করেছিল।

যাপিত জীবনের জন্য মনের মধ্যে কিছু স্বপ্ন ধারন করা কতটা হচ্ছে এই বিচিত্র সভ্যতার অংশ আর কতটা তার স্বাভাবিক ভাবে একজন সৃস্টিশীল মানুষের জন্মগত গুনের অংশবিশেষ তা বোঝার মত সময় মানুষের থাকেই না। সভ্যতা কিছু দান না করলেও সেটার অবদান স্বীকৃত হলে পরে একটি গুনগত দর্শন সবার মনেই একরকম পরিস্ফটিত হতে দেখা যায়।মানুষ তখন শুধু এসব নিয়েই কথা শুনতে চায়। কিন্তু এটা ব্যাখ্যা করা যতই দূর্বোধ্য হবে ততই যেন সেটা তৈরী হওয়া সভ্যতারই একটি মাপকাঠি হতেই হবে। আর তাকে এড়িয়ে যাবার কোন উপায়ই থাকবে না। আর যখন কিছুটা হলেও এসবের প্রকৃত ব্যাখ্যা দাঁড় করানো যাবে তখন পাশাপাশি একটি সমালোচনার ক্ষেত্রটিও তৈরী হতে দেখা যায়। 

সৃস্টিশীলতার নানান দিকগুলিও স্পস্ট হয় জন মানুষের কাছে। কেবল অংশগ্রহন বাড়তেই থাকে।লাভ কি হল তাতে। নিজের অংশটা জানান দিতে একটি সচেতনতা বোধ অনেককেই তাড়া করবেই তখন।এই ভাইব যখন সুস্পস্ট হয়ে যায় তখন আর এরা প্রছন্ন ব্যাক্তিত্ব নয় বিধায় অনেকেই সামনে আসেন এবং প্রত্যক্ষ অংশগ্রহন করে থাকেন। নানান বিপত্তির মুখে এনাদের ভূমিকা মনে সংশয় তৈরী করেছে অতীতে বহুবার। এরা না স্বচ্ছ মানুষ না শুদ্ধ ব্যাক্তিত্ব। এদের কিছু ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ।

ক্ষমতার কেন্দ্রটি কি আসলে অখাদ্যের যোগান দিয়ে যাচ্ছে প্রত্যকদিন নাকি এটাই সবার অজ্ঞতার কোন না কোন পুঁজি। পুঞ্জীভূত ক্ষোভ হলে তাহলে অন্য কোন দূরবর্তী কিছুরও ইঙ্গিতবহ। অথবা এমন হতেও পারে কিনা যে ক্ষমতার কেন্দ্রটি আসলে সুস্থ এবং কানেক্টেড সমাজের অবসরের দূরদর্শন।উত্তরের অভাবে কার্যকারন বেশ অস্পস্ট হয়ে গেলে এটাও তখন বুঝে ওঠা কঠিন হয়। 

তবে দৈনন্দিতার একটি হিসাব কষলে তখন এটা মনে হবে যে এই ঘটনা প্রবাহ কেন্দ্রীভূত ক্ষমতার আশপাশে বিরাজমান একটা নেক্সাস এবং অধিকন্তু এটা স্রেফ শহর কেন্দ্রীকতারই ধারাবাহিকতা। এখানে পিছিয়ে পড়া বা পশ্চাদপদ একটি শ্রেনীর অদৃস্টটি আস্ট্রেপিস্টে বাঁধা আছে বলে দেখানো হতে পারে এই একই সমতলে। স্থানীয় প্রশাসনের নীরবতা বা চরম ব্যার্থতার ভয়াবহ পরিস্থিতির অজানা আতঙ্ক কিংবা বর্জনমূলক সংস্কৃতির প্রত্যক্ষ ফসলও হবে হয়তো।

তবে যে কোন অসুস্থ সমাজে ক্ষমতার কেন্দ্রটি আসলে ভবিষৎকে বিনির্মান করার চেয়েও উপরোল্লিখীত সমস্যা গুলোকেই বেশি রিফ্লেক্ট করে থাকে বিধায় এটা কোন স্বাভাবিক নেক্সাস না ও হতে পারে।গনতন্ত্র চর্চার আড়ালেও এখানে স্পস্টতঃ ব্যক্তি মানষিকতার উৎকর্ষই চর্চিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত এবং আসল লক্ষ্য সেটাই। পর্দার আড়ালেও যখন তাদের উদ্যেশ্যই হয়ে যায়  ব্যাক্তির প্রধান কর্মসূচী সেটা  সাংগঠনিক অনুমোদনের সাপেক্ষ পরবর্তিতে একটি সামগ্রিকতা লাভ করলেও তবু প্রাধান্য পাবে শুধু ঐ গড্ডালিকা প্রবাহই। কেননা এখানে একটি অন্ধকার না থাকলেও কিন্তু অন্ধ কিছু রূপায়ন ঘটতেই থাকবে Rhetorics হচ্ছে বলে ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষ্য প্রমান (Quagmire) আছে। এখানে টার্গেট গুলি নিত্যই পরিবর্তিত হয়, পরিবর্ধীত, বিবেচিত, বিক্রিত, হস্তান্তরিতও হচ্ছে প্রতিনিয়ত। তবে সমস্ত টর্গেটই ব্লাইন্ড টার্গেট কিন্তু না। কুশীলবদের নেপথ্যের ভূমিকা কেউই ধরতে পারে না।


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

টানাপড়েন ছাড়া কি জীবন হয়

 শতভাগ সমস্যাসঙ্কূলতা চারদিক থেকে কি জীবনকে ঘিরে ধরে কখনও। শহুরে সভ্যতায় এটা কি সম্ভব। কারন দূর্বল মানুষের পক্ষে সুযোগের সদ্ব্যাবহার করে চলার যথেস্ট সুযোগ আমাদের সভ্যতায় কয়েকটি শতাব্দী অতিক্রান্ত হলেও আছে। পুরাতন এই সভ্যতায় টিকে থাকার নানান উপাদান এখনও যথেস্ট পরিমানে হয়েছে। পাশবিকতার পাশাপাশি মনুস্বত্ব চর্চাও সমান তালে চলছে। এখন মানুষ শতভাগ দুঃশ্চিন্তার কথা না বলে শতাংশের হিসাবে সমস্যাগুলি চিহ্নিত করতে জানে। টিকে থাকার প্রসঙ্গে সিরিয়াসনেসের কথা আলোচনায় না জড়িয়ে এর চেয়েও বেশি করে সামাজিক বিপ্লবকে প্রাধান্য দিয়ে চলতেও শিখেছে। কিন্তু আমাদের মাতৃভূমি এই দেশ এখন যেমন আছে চিরকালই এমন ছিলো না। কোন একসময় ধানমন্ডি গুলশানের মত এলাকাতেও সন্ধ্যা নামতেই মানুষ তাড়াহুড়ো করে ঘরে ঢুকে ভাল করে খিল লাগিয়ে তবে শু'তো। সেটা ভূতের ভয়ে নাকি অন্য কোন কারনে তা জানিনা। তবে এখনকার উন্নত এসব এলাকার অনেকটাই জঙ্গলময় ছিলো তখন। বাগডাঁশ বনবিড়াল শেয়াল এসবের বিচরন ক্ষেত্র ছিলো। এখন পুরা পৃথিবীতেই জনসংখ্যা ব্যাপক ভাবে বেড়েছে উন্নয়নের তাড়নায়। পৃথিবীতে সাতশত কোটি মানুষ এখন। তারা সবাই যদি একযোগে হুঙ্কার দেয় তখন বাগডাঁশ হ...

কথা হল শুরু চিরির বন্দর বুড়িমারি উপজেলা।

 কোন বন্ধু নাই। কথা বলতে হলে যোগ দিতে হবে আড্ডায়।নাহ্ কয়জনার সামর্থ আছে ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর। ড্রেনের পোকা কিঁড়াগুলি কিলবিল করে এই প্রলিফিক আবহাওয়াতে। রাস্তার দিকে নজর যায় না। কিন্তু তবুও শোরগোল কিছুটা কানে আসলে তখন তাকাতেই হয়। হ্যাবলা চোখে কেবল না পারে কিছু দেখতে আর না পারে মানুষেরও নজর এড়াতে এমন ক্যাবলাকান্ত (Cable)দের প্রাধান্য চোখে পড়ার মত এখানে। আড্ডাখানা জমজমাট থাকে। হামেশাই গোলমালে উচ্চকিত হতেও বাধা নাই কোথাও।  বুড়িমারিতে বন্ধুবান্ধবের বড়ই অভাব। কথা হল শুরু এভাবেই। ছোট ভাই কাছেই আছে। মারুফা ছাদে বসে রোদ পোহাচ্ছে। সাত সকালের শীতের তীব্রতা কমা তো দূরেই থাক এখন সকাল দশটাতেও আরো বলে বেড়েছে মনে হয়। কুয়াশার চাদর থেকে সূর্য উঁকি দিয়েছে সবে।তাই হবে হয়ত এইজন্য। এই ছোট শহরের কারোরই যেন চাওয়া পাওয়া নাই।পৃথিবীটা অনেক বড় হলেও এদের সেই ধারনাটা কেবল দূরবীন দিয়ে দেখার মত।বেশিরভাগ মানুষই এখানে কি রকম নিস্পূহ থাকে।তবুও কাহিনী আছে। যার অধিকাংশই আড্ডাখানার অবাস্তব সব কাহিনী। বাংলা কবিতায় যেমনটা এসেছে,  ''থাকবোনা আর বদ্ধ ঘরে দেখবো এবার জগৎটাকে..'' বন্ধু পাওয়া না পাওয়ার কথা নয়। ...